দৃষ্টান্ত-২ এ অবান্তর লক্ষণের বিভিন্ন ধরন' প্রকাশ পেয়েছে।
যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয়, আবার জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও নয়; তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। অবান্তর লক্ষণকে মোট চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, ২. শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, ৩. ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এবং ৪. ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ বলা হয়েছে, কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এখানে কাজী নজরুল ইসলামের 'জন্মসাল' ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কেননা যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে, তাকে ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে নজরুলের বাবরি চুলের কথাও বলা হয়েছে। 'বাবরি চুল' হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কেননা যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কখনও উপস্থিত থাকে আবার কখনও উপস্থিত থাকে না তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। পরিশেষে বলা হয়েছে তিনি ছিলেন 'দ্বিপদ' বিশিষ্ট। এই 'দ্বিপদ' গুণটি শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে, তাকে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। 'দ্বিপদ' গুণটি মানুষের ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে। তাই এটি শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
তাই বলা যায়, দৃষ্টান্ত-২ অবান্তর লক্ষণের প্রকরণ হিসেবে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এবং ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে।