উদ্দীপকে মায়ের কথায় উল্লিখিত পদ দুটি যথাক্রমে জাতি ও উপজাতি বিধেয়ক নির্দেশ করেছে। নিচে জাতি ও উপজাতি বিধেয়কের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
দুটি জাতিবাচক পদের মধ্যে যেটির ব্যক্ত্যর্থের পরিধি অপরটির চেয়ে বৃহত্তর সেই শব্দ বা পদটিকে অপর পদের জাতি বলে। যেমন- সকল বাঘ হয় প্রাণী। এখানে 'প্রাণী' এবং 'বাঘ' উভয়ই শ্রেণিবাচক, তবে প্রাণীর ব্যক্ত্যর্থ বাঘের ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বেশি এবং এটি বাঘের ব্যক্ত্যর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই বাঘ প্রাণী শ্রেণির অন্তর্গত এক ধরনের প্রাণী বলে বাঘের তুলনায় প্রাণী হচ্ছে জাতি। আবার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি পদের মধ্যে যদি একটি অপরটিকে আওতাভুক্ত করে তবে আওতাভুক্ত শ্রেণিকে উপজাতি বলে। যেমন- কিছু ছাত্র হয় মানুষ। এখানে ছাত্র ও মানুষ শ্রেণিবাচক পদ দুটির মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা কম এবং মানুষের সংখ্যা বেশি। ব্যাপকতার দিক দিয়ে ছাত্র পদটি ছোট এবং মানুষ পদের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই পরস্পর সম্পর্কের। দিক থেকে ছাত্র পদটি মানুষ পদের উপজাতি।
উদ্দীপকে মায়ের বক্তব্যটি হলো "ইউরোপিয়ানরাও তো হয় মানুষ।” এখানে 'মানুষ' এবং 'ইউরোপিয়ানরা' হলো দুটি শ্রেণিবাচক পদ। যার মধ্যে 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ 'ইউরোপিয়ান' পদটিকে অর্ন্তভুক্ত করে। তাই মানুষ পদটি জাতি এবং 'ইউরোপিয়ান' পদটি উপজাতি।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মায়ের বক্তব্যে উল্লিখিত 'মানুষ' ও 'ইউরোপিয়ান' পদ দুটি জাতি ও উপজাতি নামক বিধেয়ক হিসেবে উভয়ের মধ্যে ব্যক্ত্যর্থগত পার্থক্য বিদ্যামান।