উদ্দীপকের আলোকে ধারণা-১ ও ধারণা-২ উভয়ই বিধেয়কের প্রকারভেদ অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে। তবে সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে ধারণা-১ 'শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' এবং ধারণা-২ 'শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' কে নির্দেশ করে।
অবান্তর লক্ষণের চারটি প্রকারভেদ রয়েছে এর মধ্যে প্রথমটি হলো শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কোনো প্রকার অবান্তর লক্ষণই জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থের সাথে অপরিহার্যভাবে যুক্ত নয়। কিন্তু কিছু অবান্তর লক্ষণ আছে যা কোনো শ্রেণির ক্ষেত্রে সব সময় যুক্ত থাকে। যে অবান্তর লক্ষণ কোনো জাতি বা শ্রেণির ক্ষেত্রে সব সময় অপরিহার্যভাবে উপস্থিত থাকে বা বর্তমান থাকে তাকে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। -ধারণা-১-এর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, 'কালো' বাক্যটি 'কোকিল' শ্রেণির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে। তাই এটি শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
আর যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির ক্ষেত্রে সব সময় বর্তমান থাকে না সেটি শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। ধারণা-২ এর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, গরু চতুষ্পদ হলেও সকল গরু গৃহপালিত নয়। অর্থাৎ, এটি গরু শ্রেণির সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সুতরাং ধারণা-১ ও ধারণা-২ উভয়ই অবান্তর লক্ষণের প্রকারভেদ। উভয় প্রকার অবান্তর লক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে মিল থাকলেও এরা ভিন্ন প্রকৃতির।