যে উদ্দীপকের টিপু ও অপুর উক্তিতে বিধেয়ক হিসেবে অবান্তর লক্ষণ এবং উপলক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে। কেননা এখানে যে গুণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো বিধেয়ক হিসেবে অবান্তর লক্ষণ ও উপলক্ষণ।
বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে দুটি হলো উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ। বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সর্বশেষটি হলো অবান্তর লক্ষণ। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং - পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে পাওয়া যায় না, সেসব গুণ বা * গুণাবলিকে অবান্তর লক্ষণ বলে। অর্থাৎ, অবান্তর লক্ষণ হলো এমন গুণ, যা কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্তও নয়। উদ্দীপকের টিপুর উক্তির বিষয়টি হলো 'দ্বিপদ' এমন গুণ যা 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং পদটির জাত্যর্থ থেকে পাওয়াও যায় না। তাই এটি বিধেয়ক হিসেবে অবান্তর লক্ষণ স্পষ্টভাবে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর' লক্ষণ।
আর যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে পাওয়া যায় সে গুণ বা গুণাবলিকে উপলক্ষণ বলে। অর্থাৎ, উপলক্ষণ কোনো পদের - জাত্যর্থের অংশ না হলেও পদটির জাত্যর্থের সাথে সম্পর্কিত। উদ্দীপকের অপুর উক্তিতে যে গুণের উল্লেখ আছে তা হলো 'মরণশীল'।
'মরণশীল' গুণটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ নয়; কিন্তু 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ 'জীববৃত্তি' থেকে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, 'মরণশীল' গুণটি 'জীববৃত্তি' থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। তাই 'মরণশীল' গুণটি বিধেয়ক হিসেবে উপলক্ষণ।