উদ্দীপকের শেফালীর বক্তব্যে উপলক্ষণ বিধেয়কের এবং শিউলির বক্তব্যে শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। দুটিই বিধেয়কের প্রকার, তাই এদের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক।
যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, অথচ পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে উক্ত পদের উপলক্ষণ বলে। উদ্দীপকে শেফালী 'ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং মারা যাওয়া' তিনটি গুণের কথা বলা হয়েছে। 'ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং মারা যাওয়া গুণ তিনটি মানুষের জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু মানুষের জাত্যর্থ জীববৃত্তি থেকে এ গুণ তিনটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। মানুয়ের জীববৃত্তি গুণটি না থাকলে মানুষ ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা মারা যেত না বা জীব হতো না। কারণ থেকে যেমন কার্য নিঃসৃত হয়, ঠিক তেমনি জাত্যর্থ থেকে উপলক্ষণ নিঃসৃত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে শেফালী 'ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং মারা যাওয়া' তিনটি গুণ উপলক্ষণ নামক বিধেয়ক।
আবার, উদ্দীপকে শিউলির বক্তব্যে পোশাক পরা, ছবি আঁকা, গান করা ইত্যাদি যে গুণগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো শ্রেণির্গত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে। শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো এমন গুণ, যা কোনো কোনো সময় শ্রেণির ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকে; আবার কোনো কোনো সময় অনুপস্থিত থাকে। মানুষের রুচি, অভ্যাস ও দক্ষতা পরিবর্তিত হয়। উদ্দীপকের শিউলির বক্তব্যে পোশাক পরা, ছবি আঁকা, গান করা ইত্যাদি যে গুণগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো পরিবর্তনশীল। তাই এগুলো শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।