প্রথম ও দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে যথাক্রমে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অরান্তর লক্ষণ ও উপলক্ষণ নামক দুটি বিধেয়কের ইঙ্গিত আছে।
উদ্দীপকের প্রথম দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে, 'রাফিন ভালো ছবি আঁকতে পারে'। এখানে 'ভালো ছবি আঁকা' গুণটি জাত্যর্থের অংশ নয়। আবার, জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয় তাই গুণটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তি বিশেষের বেলায় সর্বদাই বর্তমান থাকে না এবং যা মাঝে মাঝেই পরিবর্তিত হতে পারে তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। কোনো ব্যক্তির পোশাক, আচার-ব্যবহার, জীবিকা ইত্যাদি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে, 'শিমুল খাবার খায়'। এখানে 'খাবার খাওয়া' গুণটি জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি' থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। তাই এ গুণটি উপলক্ষণের একটি দৃষ্টান্ত। কারণ যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, অথচ পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে উক্ত পদের উপলক্ষণ বলে। যেমন- 'বিচারশক্তি' ও 'ক্ষুধা' গুণ দুটি মানুষ পদের উপলক্ষণ। কারণ এ গুণ দুটি মানুষ পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু মানুষের জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকেই অনিবার্যভাবে উদ্ভূত হয়েছে।
অবান্তর লক্ষণ ও উপলক্ষণ গুণ দুটির সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে বলা যায়, দুটি গুণের কোনোটিই জাত্যর্থের অংশ নয়। আবার, বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ একটি পরিবর্তনশীল গুণ। কিন্তু উপলক্ষণ গুণটি অপরিবর্তনীয়। এছাড়া, ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ গুণটি জাত্যর্থের অংশ নয়, আবার জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়। পক্ষান্তরে, উপলক্ষণ গুণটি জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথম দৃষ্টান্তের ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ ও দ্বিতীয় দৃষ্টান্তের উপলক্ষণ বিধেয়ক দুটির কোনোটিই জাত্যর্থের অংশ নয়।