উদ্দীপকে তমালের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিধেয়কের প্রকারভেদ উপলক্ষণকে প্রকাশ করেছে। কেননা এ গুণগুলো তার বুদ্ধিবৃত্তি গুণ থেকে নিঃসৃত হয়েছে।
বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে চতুর্থটি হলো উপলক্ষণ। সাধারণত উপলক্ষণ বলতে লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ থেকে নিঃসৃত কোনো অনুমিত গুণকে বোঝায়। বিভেদক লক্ষণ হলো কোনো জাতি বা শ্রেণির বিভেদ বা পৃথক করার গুণ। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো শ্রেণিকে সমজাতীয় অন্যান্য শ্রেণি থেকে পৃথক করে, তাকে বিভেদক লক্ষণ বলে। আর উপলক্ষণ কোনো জাতি বা শ্রেণির লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। তাই বলা যায়, যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় সেই গুণ বা গুণাবলিকে উপলক্ষণ বলে। অর্থাৎ উপলক্ষণ কোনো শ্রেণির জাত্যর্থের অংশ না হলেও জাত্যর্থের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত। উদ্দীপকের তমাল অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ লোক ছিলেন। এখানে মেধাবী ও বিচক্ষণ একটি গুণ, যা তার জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। অর্থাৎ মেধাবী ও বিচক্ষণ গুণটি মানুষ পদের জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তির সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত। অর্থাৎ মানুষ পদের জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তি থেকে নিঃসৃত হওয়ায় মেধাবী ও বিচক্ষণ গুণটি একটি উপলক্ষণ। সুতরাং দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত গুণটি দ্বারা বিধেয়কের প্রকারভেদ হিসেবে উপলক্ষণের পরিচয় পাওয়া যায়।