উদ্দীপকে 'প্রাণীর সাথে হরিণ পদের সম্পর্ক' বিধেয়কের জাতি উপজাতিকে নির্দেশ করে।
দুটি শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে যেটির ব্যক্ত্যর্থ অপরটির তুলনায় বৃহত্তর হয়, তাহলে সেই পদটিকে অপর পদের জাতি বলে । আবার, দুটি পদের মধ্যে যে পদটির ব্যক্ত্যর্থের পরিমাণ অপরটির চেয়ে সংকীর্ণতর সেই পদটিকে বৃহত্তর পদটির উপজাতি বলে। যেমন— 'জীব' এবং 'মানুষ' দুটি পদই জাতিবাচক। এ দুটি পদকে তাদের ব্যক্ত্যর্থের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, 'মানুষ' পদের চেয়ে 'জীব' পদের ব্যক্ত্যর্থ অধিক। সুতরাং সংজ্ঞা অনুযায়ী 'জীব পদটিকে 'মানুষ' পদের জাতি এবং 'মানুষ' পদটিকে 'জীব' পদের উপজাতি বলা হয়। যুক্তিবিদ্যায় জাতি ও উপজাতি শব্দ দুটি পরষ্পর সম্পর্কযুক্ত। এদের একটি ব্যতীত অন্যটি অর্থশূন্য।
জাতি ও উপজাতি দুটি সাপেক্ষ পদ। একটি অন্যটির ওপর নির্ভরশীল অর্থাৎ কোনো জাতির অন্তর্গত উপজাতিগুলো বাদ দিলে যেমন জাতি বলা যায় না, তেমনিভাবে কোনো উপজাতি যে জাতির অন্তর্গত সেই জাতির কথা. বাদ দিলে উপজাতিকে আর উপজাতি বলা যায় না। উদ্দীপকের 'হরিণ' শ্রেণিবাচক পদটি 'প্রাণী' নামক শ্রেণিবাচক পদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা প্রাণীর তুলনায় উপজাতি। ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে উপজাতিগুলো জাতির অন্তর্গত কিন্তু জাত্যর্থের দিক থেকে যেকোনো জাতি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। যেমন— 'প্রাণী' ও 'হরিণ' পদের মধ্যে ব্যক্ত্যর্থের দিক দিয়ে 'প্রাণী' বড় কিন্তু জাত্যর্থের দিক দিয়ে 'হরিণ' বড়। কারণ 'প্রাণী' পদের জাত্যর্থ হলো “জীববৃত্তি' আর 'হরিণ' পদের জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'হরিণত্ব'।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রাণীর সাথে হরিণ পদের সম্পর্ক দ্বারা বিধেয়কের জাতি ও উপজাতির মধ্যেকার সম্পর্ক নির্দেশিত হয়েছে।