দৃশ্যকল্প-১ ও ২ দ্বারা যথাক্রমে জাতি এবং উপজাতিকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে জাতি এবং উপজাতির মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
জাতি ও উপজাতির মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে, জাতি ও উপজাতি উভয়ই বিধেয়কের দুটি প্রকরণ মাত্র। দুটিই শ্রেণিবাচক সাপেক্ষ পদ। এ দুটি পদের একটিকে ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। কারণ জাতি হলো। উপজাতির সমন্বয়ে গঠিত উচ্চতর পদ। আর উপজাতি হলো জাতির বিভিন্ন রূপ। যেমন— মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। এখানে 'মানুষ' ও 'জীব' পদ দুটির মধ্যে 'জীব' পদটি 'মানুষ' পদটিকে ব্যক্ত্যর্থের দিক দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করায় জীব' পদটি জাতি এবং 'মানুষ' পদটি উপজাতি। আর বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, জাতির ব্যক্ত্যর্থ বেশি, কিন্তু উপজাতির ব্যক্ত্যর্থ কম অর্থাৎ জাতি হলো একটি সামগ্রিক পদ। কিন্তু উপজাতি হলো জাতির অংশগত বিশেষ বা ক্ষুদ্র পদ। আবার, জাতির জাত্যর্থ কম কিন্তু উপজাতির জাত্যর্থ বেশি। যেমন- 'জীব' পদের জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি। কিন্তু মানুষ' পদের জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ সকল জীব, সকল পশু, গৃহপালিত পশু শ্রেণিবাচক পদগুলো উল্লেখ করায় তা বিধেয়কের জাতিকে নির্দেশ করে। আর দৃশ্যকল্প ২ এ লাল, হলুদ, নীল-প্রজাপতি দ্বারা উপজাতিকে নির্দেশ করা হয়েছে । কেননা, প্রজাপতি পদটি ব্যক্ত্যর্থের দিক দিয়ে দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লেখিত 'সকল জীব' পদের অন্তর্ভুক্ত।
আলোচনা শেষে বলা যায়, জাতি ও উপজাতি বিধেয়কের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক বিদ্যমান।