উদ্দীপকে 'বুদ্ধিজীবী' ও 'বিচারশক্তি' শব্দ দ্বারা বিধেয়ক হিসেবে উপলক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।
বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে একটি হলো উপলক্ষণ। এই বিধেয়ক কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়। তবে জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ না হলেও জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে বিধেয়ক হিসেবে উপলক্ষণ বলে। যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি গুণ মানুষের জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু এগুলো মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি থেকে অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়। তাই ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি গুণগুলি মানুষের উপলক্ষণ। ঠিক তেমনিভাবে 'মানুষ হলো এমন জীব যার যুক্তিবিদ্যা বোঝার ক্ষমতা আছে' এই যুক্তিবাক্যে 'যুক্তিবিদ্যা বোঝার ক্ষমতা' কথাটি মানুষ পদটির একটি উপলক্ষণ। কেননা এটি বুদ্ধিবৃত্তি নামক জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। বুদ্ধিবৃত্তি না থাকলে কেউ যুক্তিবিদ্যা বোঝার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না।
উদ্দীপকে, 'বুদ্ধিজীবী' ও 'বিচারশক্তি' শব্দ দুটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ নয়। তবে 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে অনিবার্যভাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, 'বুদ্ধিজীবী' ও 'বিচারশক্তি' গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ না হলেও জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে পাওয়া যায়।
তাই উদ্দীপকের 'বুদ্ধিজীবী' ও 'বিচারশক্তি' পদ দুটি দ্বারা বিধেয়ক হিসেবে উপলক্ষণ নির্দেশত হয়েছে।