উদ্দীপকে উল্লিখিত 'জ্ঞানপিপাসু' শব্দটি বিধেয়কের প্রকারভেদ হিসেবে অবান্তর লক্ষণ। কেননা বিধেয়ক হিসেবে অবান্তর লক্ষণের সাথে শব্দটির মিল রয়েছে।
বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সর্বশেষ অবান্তর লক্ষণ। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়; আবার পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও নয়, সে গুণ বা গুণাবলিকে অবান্তর লক্ষণ বলে। অবান্তর লক্ষণ জাত্যর্থের অংশ নয়, এটি জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ। যুক্তিবিদ্যার অবান্তর লক্ষণকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে; সেগুলো হলো-
১. শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
২. শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
৩. ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
৪. ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
১ . শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ: যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির অন্তর্গত সকল ব্যক্তি বা বস্তুতে বর্তমান থাকে তাঁকে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- কাকের রং কালো।
২. শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ: যে অবান্তর লক্ষণ কোনো 'শ্রেণির অন্তর্গত সব ব্যক্তি বা বাস্তবে উপস্থিত থাকে না তাকে শ্রেণিবাচক বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- লাল ফুল, সাদা বিড়াল ইত্যাদি।
৩. ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ: যে অরান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তিবিশেষের সাথে সবসময় জড়িত থাকে তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- ব্যক্তির জন্মস্থান, জন্ম তারিখ ইত্যাদি।
৪. ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ: যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে কখনো বর্তমান, কখনো অবর্তমান তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- ব্যক্তির হাস্যপ্রিয় বা সৌন্দর্যপ্রিয় গুণ।
সুতরাং উদ্দীপকের জ্ঞানপিপাসু গুণটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, যা বিধেয়কের প্রকারভেদ অবান্তর লক্ষণের সাথে সম্পৃক্ত।