দৃশ্যপট-১ অবরোহ অনুমান এবং দৃশ্যপট-২ আরোহ অনুমান নির্দেশ করে। নিচে উভয় অনুমানের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-দৃশ্যপট-১ এ ইঙ্গিতকৃত অবরোহ অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং আশ্রয়বাক্যের কম ব্যাপক অথবা সমব্যাপক সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়। যেমন-সকল কবি হন সৃজনশীল। কাজী নজরুল ইসলাম হন কবি। অতএব, কাজী নজরুল ইসলাম হন সৃজনশীল। এখানে সার্বিক আশ্রয়বাক্য থেকে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে এটি অবরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, দৃশ্যপট-২ এ রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম ও জসীম উদ্দীনের সৃজনশীলতার অবলম্বনে বলা হয়েছে, সকল কবি হন সৃজনশীল। অর্থাৎ এখানে অল্প দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ থেকে সমগ্র বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই এটি আরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত।
অবরোহ অনুমানে আকারগত সত্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও আরোহ অনুমানে আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এছাড়াও অবরোহ অনুমানে একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। কিন্তু আরোহ অনুমানে সব সময় একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। এ অনুমান সব সময় আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয়। কিন্তু অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যপট-১ ও দৃশ্যপট- ২ হলো অবরোহ ও আরোহ অনুমান। ভিন্ন বৈশিষ্ট্য হওয়ার কারণে উভয় অনুমানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।