উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ অবরোহ অনুমান এবং দৃষ্টান্ত-২ এ আরোহ অনুমান নির্দেশিত হয়েছে। নিচে অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে অবরোহ অনুমান বলে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ দুটি আশ্রয়বাক্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে অনিরার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক একটি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করার কারণে দৃষ্টান্ত-১ এ অবরোহ অনুমান নির্দেশ করেছে।
যে অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে আরোহ অনুমান বলে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ সুমন, সজল, গীতা, মিতা-এর মরণশীলতার ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সকল মানুষ হয় মরণশীল। অর্থাৎ এটি একটি আরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত। অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক তা হলো-
১. আরোহ ও অবরোহ দুটিই হলো অনুমান। অনুমান বলতে জানা থেকে অজানায় গমন করার মানসিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
২. অবরোহ অনুমান যে সার্বিক বাক্য দিয়ে শুরু করে সেগুলো সরবরাহ করে আরোহ অনুমান। আবার আরোহ অনুমান যে সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপন করে তাকে যাচাই করতে অবরোহ পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়।
৩. আরোহ ও অবরোহ উভয়েরই মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য একই। আর সেটি হচ্ছে সার্বিক নিয়মের সাথে বিশেষ ঘটনাবলির সম্পর্ক নিরূপণ করা।
৪. আরোহ ও অবরোহ উভয় অনুমানেরই লক্ষ্য সত্যতা অর্জন করা।
৫. যুক্তিবিদ ওয়েলটন বলেন, প্রকৃতির বিশেষ বস্তু বা ঘটনার মধ্যে একটা সমগ্রতার রূপ লুকিয়ে আছে। এ রূপকে খুঁজে বের করাই আরোহ ও অবরোহ অনুমানের লক্ষ্য।