উদ্দীপকের 'যুক্তি-১'-এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমান নির্দেশিত হয়েছে। আর 'যুক্তি-২'-এর মাধ্যমে আরোহ অনুমান নির্দেশিত হয়েছে। আর দুই প্রকার অনুমানের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে।
'যুক্তি-১'-এ 'সকল পাখি হয় দ্বিপদ' এবং 'সকল কোকিল হয় পাখি' এই দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সকল কোকিল হয় দ্বিপদ'-এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাই 'যুক্তি-১'-এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমান নির্দেশিত হয়েছে। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। তবে এই অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের সমব্যাপক হতে পারে। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়। তাই এখানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক থাকে। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তের সত্যতা এর আশ্রয়বাক্যের সত্যতার ওপর নির্ভর করে । আর অবরোহ অনুমানের লক্ষ্য থাকে কেবল আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
অপরপক্ষে, 'যুক্তি-২'-এ সজল, জহির, জাকির, ফরিদ প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ মানুষের মরণশীলতা প্রত্যক্ষ করে সকল মানুষ হয় মরণশীল'-এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাই 'যুক্তি-২'-এর মাধ্যমে আরোহ অনুমান নির্দেশিত হয়েছে। আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ থেকে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় বিধায় এর সিদ্ধান্ত সবসময় আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয়ে থাকে। আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি সংশ্লেষক বিধায় এখানে জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়। আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি সকল ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় না। তাই এখানে সবসময় আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক থাকে না। আর আরোহ অনুমানের লক্ষ্য থাকে আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা।