উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ অবরোহ অনুমান এবং দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহ অনুমান প্রকাশিত হয়েছে। সত্যানুসন্ধানে অবরোহ অনুমান ও আরোহ অনুমানের মধ্যে আরোহ অনুমান উপযোগী বলে আমি মনে করি।উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ প্রকাশিত অনুমানে বলা হয়েছে, 'সকল মানুষ হয় মরণশীল, 'ক' হয় মানুষ, অতএব, 'ক' হয় মরণশীল।' এটি অবরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত। এ অনুমান সত্যের আকারগত দিকটি নিয়ে আলোচনা করে। ফলে সত্যের বস্তুগত দিকটি উপেক্ষিত থেকে যায়।অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকাশিত অনুমানে বলা হয়েছে, 'শামসুর রহমান হন মরণশীল, মংছেন চীং হন মরণশীল, পলান সরকার হন মরণশীল, অতএব, সকল মানুষ হন মরণশীল।' এটি আরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত। এ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতি অবলম্বন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে আরোহ অনুমানে সত্যের আকারগত ও বস্তুগত উভয় দিকই পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। যা সত্যের নিশ্চয়তার মাত্রাকে অবরোহের তুলনায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তোলে।আলোচনা শেষে বলা যায়, অবরোহ অনুমান কেবল সত্যের তাত্ত্বিক দিককে প্রাধান্য প্রদান করে। ফলে সত্য হয়ে পড়ে আকার নির্ভর। কিন্তু আরোহ অনুমান সত্যের তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় দিক নিয়ে আলোচনা করে। ফলে সত্যের মাত্রা জ্ঞানপিপাসুকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়। তাই সত্যানুসন্ধানের ক্ষেত্রে আরোহ অনুমান অধিক উপযোগী বলে আমি মনে করি।