উদ্দীপকে বর্ণিত মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, শরিয়তপুরের জাজিরা ও পদ্মা সেতুর সাথে পাঠ্যপুস্তকের সহানুমানের প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদের সাদৃশ্য রয়েছে।
সহানুমানে তিনটি পদ থাকে। প্রত্যেকটি পদ আবার দুই বার করে ব্যবহৃত হয়। পদগুলো হলো- ১. প্রধান পদ, ২. অপ্রধান পদ ও ৩. মধ্যপদ। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রধান পদ বলে। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে অপ্রধান পদ বলে। আর যে পদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে মধ্যপদ বলে। যেমন-
A- সকল মানুষ হয় মরণশীল — প্রধান আশ্রয়বাক্য
A-সকল বৈজ্ঞানিক হয় মানুষ — অপ্রধান আশ্রয়বাক্য
A-সকল বৈজ্ঞানিক হয় মরণশীল — সিদ্ধান্ত
উল্লেখিত উদাহরণে 'মরণশীল' হলো প্রধান পদ। কেননা, পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 'বৈজ্ঞানিক' হলো অপ্রধান পদ। কারণ এ পদটি সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'মানুষ' পদটি হলো মধ্যপদ। কেননা, এ পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে আছে কিন্তু সিদ্ধান্তে নেই। উদ্দীপকে অনুরূপ শরিয়তপুরের জাজিরাকে প্রধান পদ, মুন্সিগঞ্জের মাওয়াকে অপ্রধান পদ ও পদ্মা সেতুকে মধ্যপদ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সহানুমানে মধ্যপদের মাধ্যমে যেমন প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তেমনি পদ্মা সেতুর মাধ্যমে জাজিরার সাথে মাওয়ার সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।