উদ্দীপকে উল্লেখিত তিনটি পদের আলোকে সহানুমানের গঠন প্রণালি বর্ণনা করা হলো-
সহানুমান মূলত তিনটি পদ ও তিনটি বাক্য দ্বারা গঠিত। যেখানে তিনটি পদ প্রত্যেকটি দুবার করে ব্যবহৃত হয়। পদগুলো হলো— প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদ। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রধান পদ বলে। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে অপ্রধান পদ বলে। যে পদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না, তাকে মধ্যপদ বলে। নিরপেক্ষ সহানুমানে দুটো আশ্রয়বাক্য ও একটি সিদ্ধান্ত থাকে। বাক্যগুলো হলো- প্রধান আশ্রয়বাক্য, অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত বাক্য। সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদ থাকে তাকে প্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদ থাকে তাকে অপ্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। সহানুমানের প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্য থেকে অনুমিত বাক্যটিকে সিদ্ধান্ত বলে ।
উদ্দীপকে বর্ণিত, সকল প্রাণী হয় উপকারী। পাখি হয় প্ৰাণী।
∴পাখি হয় উপকারী।
এই সহানুমানের দৃষ্টান্তে প্রধান পদ হলো উপকারী', অপ্রধান পদ 'পাখি' এবং মধ্যপদ হলো 'প্রাণী'। উল্লেখিত দৃষ্টান্তে প্রথম আশ্রয়বাক্যটি হলো প্রধান আশ্রয়বাক্য, দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যটি হলো অপ্রধান আশ্রয়বাক্য এবং শেষ যুক্তিবাক্যটি হলো সিদ্ধান্ত।
পরিশেষে বলা যায়, সহানুমানের গঠন প্রণালিতে তিনটি পদ ও তিনটি বাক্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । মূলত এগুলো ছাড়া সহানুমান গঠিত হতে পারে না ।