উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১' ও 'দৃষ্টান্ত-২'-এর মধ্যে বৈধতার পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা 'দৃষ্টান্ত-১' এর যুক্তিটি বৈধ কিন্তু 'দৃষ্টান্ত-২' এর যুক্তিটি অবৈধ।নিচে এদের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা হলো-উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১' এর যুক্তিটি একটি প্রতিবর্তনের যুক্তি। যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গুণের পরিবর্তন করে এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে বিধেয় হিসেবে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত, অনুমিত হয় তাকে প্রতিবর্তন বলে। উদ্দীপকের 'দৃষ্টান্ত-১' এ 'কিছু মানুষ হয় সৎ' এই আশ্রয়বাক্য থেকে 'কিছু মানুষ নয় অসৎ'-এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের অর্থ অপরিবর্তিত রয়েছে কিন্তু গুণের পরিবর্তন হয়েছে। আর আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে সিন্ধান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবর্তনের অন্যান্য নিয়মও এখানে অনুসরণ করা হয়েছে। তাই দৃষ্টান্ত-১' প্রতিবর্তনের একটি বৈধ যুক্তি। অপরদিকে, যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের গুণের পরিবর্তন না করে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ন্যায়সংগত ভাবে স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে আবর্তন বলে। উদ্দীপকের 'দৃষ্টান্ত-২' এ 'সকল শিক্ষক হয় মানুষ'-এই আশ্রয়বাক্য থেকে 'সকল মানুষ হয় শিক্ষক'-এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য বিধেয় পদ 'মানুষ' সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং হয়েছে যা আবর্তনের নিয়ম বিরোধী। কেননা আবর্তনের আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে গিয়ে ব্যাপ্য হতে পারে না। যেহেতু 'দৃষ্টান্ত-২' এ আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে গিয়ে ব্যাপ্য হয়েছে, তাই যুক্তিটি অবৈধ।