দৃশ্যকল্প-২ সহানুমানের একটি যুক্তি, নিচে তা সহানুমানর নিয়মের আলোকে মূল্যায়ন করা হলো-আমরা জানি, সহানুমানের মোট দশটি নিয়ম আছে। সহানুমান বৈধ হতে গেলে এই দশটি নিয়মই মেনে চলতে হয়। প্রথম নিয়ম, প্রতিটি সহানুমানে তিনটি এবং কেবলমাত্র তিনটি পদ থাকবে। এই নিয়মের আলোকে বলা যায়, উক্ত সহানুমানে তিনটি পদই আছে। যথা- পণ্ডিত, জ্ঞানী ও দূরদর্শী। দ্বিতীয় নিয়ম, সহানুমানে তিনটি যুক্তিবাক্য এবং কেবলমাত্র তিনটি যুক্তিবাক্য থাকবে। এই নিয়মের আলোকে বলা যায়, উক্ত সহানুমানে তিনটি যুক্তিবাক্যই আছে। তৃতীয় নিয়ম, সহানুমানের আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে মধ্যপদকে অন্তত একবার ব্যাপ্য হতে হবে। এই নিয়ম অনুসারে দৃশ্যকল্প-২ এর সহানুমানে 'জ্ঞানী' মধ্যপদটি উভয় আশ্রয়বাক্যেই ব্যাপ্য আছে। চতুর্থ নিয়ম, কোনো পদ আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্য থাকলে তাকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা যাবে না। দৃশ্যকল্প-২ এর সহানুমানে এই নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা হয়নি। এভাবেই মূলত- পঞ্চম নিয়ম, দুটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে তা থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব নয়। ষষ্ঠ নিয়ম, একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে সিদ্ধান্তটিও নঞর্থক হবে এবং এর বিপরীত কথাও সত্য, অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি নঞর্থক হলে একটি আশ্রয়বাক্য অবশ্যই সদর্থক হবে। সপ্তম নিয়ম, দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্তটিও সদর্থক হবে এবং এর বিপরীত কথাও সত্য, অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি সদর্থক হলে উভয় আশ্রয়বাক্যই সদর্থক হবে। অষ্টম নিয়ম, দুটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ হলে তা থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। নবম নিয়ম, একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ হলে সিদ্ধান্তটিও বিশেষ হবে। দশম নিয়ম, প্রধান আশ্রয়বাক্যটি বিশেষ হলে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যটি নঞর্থক হলে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। অর্থাৎ IE থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হবে না। দৃশ্যকল্প-২ এর সহানুমান সকল নিয়ম অনুসরণ করেছে এবং এটি একটি বৈধ সহানুমান।