উদ্দীপকের বাবার বক্তব্যটি একটি সহানুমানের দৃষ্টান্ত। নিচে সহানুমানের গঠন প্রণালি বর্ণনা করা হলো-
সহানুমান এক প্রকার মাধ্যম অনুমান। যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় তাকে সহানুমান বলে। একটি সহানুমানে তিনটি পদ -থাকে, যার মধ্যে দুটি হলো প্রধান ও অপ্রধান পদ। সহানুমানের সিদ্ধান্তের বিধেয়কে বলা হয় প্রধান পদ। সহানুমানের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যকে বলে অপ্রধান পদ। সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদটি থাকে তাকে প্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। আর সহানুমানে যে আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদ থাকে তাকে অপ্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। সহানুমানের তৃতীয় পদটি হলো মধ্যপদ, যা প্রদান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে থাকে; কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না। মধ্যপদ প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে মধ্যপদ অবস্থান করে উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক সৃষ্টি করে। আর এ অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সহানুমানে সিদ্ধান্ত অনুমতি হয়। উদ্দীপকের অনুমানটি হলো-
সকল রাজা হয় মানুষ।
কোনো প্রজা নয় রাজা।
অতত্রব, কোনো প্রজা নয় মানুষ।
এ অনুমানটিতে তিনটি পদ হলো প্রধান পদ- মানুষ, অপ্রধান পদ-প্রজা এবং মধ্যপদ- রাজা। মধ্যপদ রাজা উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক সৃষ্টি করে একটি নতুন সিদ্ধান্ত অনুমান করেছে। সুতরাং উদ্দীপকের বাবার বক্তব্যটি সহানুমানের গঠনপ্রণালি অনুযায়ী অনুমিত হয়েছে। তাই এটি সহানুমানের একটি দৃষ্টান্ত।