উক্ত অনুমানটি তথা আবর্তনের নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না ঘটলে A- যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তন ও O-যুক্তিবাক্যের অবৈধ আবর্তন জনিত অনুপপত্তি ঘটতে পারে।
আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না। আর আবর্তনে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ পরস্পর পরিবর্তন করায় A যুক্তিবাক্যের অবাপ্য বিধেয় পদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহারের কারণে ব্যাপ্য হয়ে যায়। ফলে যুক্তিতে A যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন- A-সকল গরু হয় চতুষ্পদ। অতএব, A-সকল চতুষ্পদ জীব হয় গরু। এখানে আবর্তনীয়ের অব্যাপ্য বিধেয় পদটি আবর্তিতে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ব্যাপ্য হয়েছে বিধায় এ আবর্তনটি অবৈধ। কাজেই A-যুক্তিবাক্যের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে আবর্তন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করতে চাইলে আবর্তন করতে হবে O-যুক্তিবাক্যে।
আবার, আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী O যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব হয় না। কেননা O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন করতে গেলে অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদ বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ব্যাপ্য হয়ে যায়, যা আবর্তনের চতুর্থ নিয়ম বিরোধী। এই নিয়ম অনুসারে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না। তাই নিয়ম লঙ্ঘন করে O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন করলে তা অবৈধ হয় বা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন- O-কিছু মানুষ নয় হিংস্র। অতএব, O-কিছু হিংস্র জীব নয় মানুষ। এখানে আবর্তনীয়র ব্যাপ্য বিধেয় পদটি আবর্তিতে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অব্যাপ্য হয়েছে বিধায় এ আবর্তনটি অবৈধ।
আলোচনা শেষে বলা যায়, আবর্তনের নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না ঘটলে A-যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তন ও O যুক্তিবাক্যের অবৈধ আবর্তন জনিত অনুপপত্তি ঘটতে পারে।