উদাহরণ-১ এর মাধ্যমে অমাধ্যম অনুমানের প্রকারভেদ আবর্তন এবংউদাহরণ-২ এর মাধ্যমে প্রতিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে।
আবর্তন হলো অমাধ্যম অনুমানের প্রথম প্রকারভেদ। আবর্তনে আশ্রয়বাক্যের গুণের কোনো পরিবর্তন হয় না; তবে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ন্যায়সঙ্গত স্থান পরিবর্তন হয়। তাই বলা যায়, যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের গুণ অপরিবর্তিত রেখে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ন্যায়সঙ্গত স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে আবর্তন বলে। আবর্তনে আশ্রয়বাক্যকে বলা হয় আবর্তনীয় এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় আবর্তিত। উদ্দীপকের উদাহরণ-১ এর দৃষ্টান্তটি হলো-
সকল X হয় Y
∴ কিছু Y হয় X
উপরের দৃষ্টান্তটিতে দেখা যাচ্ছে যে, এখানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ অপরিবর্তিত রয়েছে। আর আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ন্যায়সঙ্গত স্থান পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া আবর্তনের অন্যান্য নিয়মও এখানে অনুসরণ করা হয়েছে। তাই উদাহরণ-১ এর মাধ্যমে আবর্তনই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদাহরণ-২ এর যুক্তিটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেখানে অমাধ্যম অনুমানের প্রকারভেদ প্রতিবর্তনই প্রকাশিত হয়েছে। যে অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গুণের পরিবর্তন করে এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে বিধেয় হিসেবে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে প্রতিবর্তন বলে। উদাহরণ-২ এ দেখা যাচ্ছে যে, এখানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রয়েছে কিন্তু গুণ পরিবর্তিত হয়েছে। আর আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই উদাহরণ-২ এর মাধ্যমে প্রতিবর্তনই প্রতিফলিত হয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, আবর্তন ও প্রতিবর্তন উভয়ই অমাধ্যম অনুমানের দুটি শ্রেণিবিভাগ। উভয়ক্ষেত্রেই একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। আবর্তন ও প্রতিবর্তন উভয়ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। উভয়ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হাতে না এবং আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ পারে না।