না, নবী স্যারের কাজ ও পান্থ স্যারের কথায় একই ধরনের অমাধ্যম অনুমান আসেনি। কারণ উভয়ের কর্মকান্ডে যথাক্রমে অমাধ্যম অনুমানের আবর্তন ও প্রতিবর্তন প্রকাশিত হয়েছে।
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের গুণ অপরিবর্তিত রেখে এর উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিবর্তন করে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে আবর্তন বলে। উদ্দীপকের নবী স্যার একটি বেঞ্চের দুই মাথায় ইকরাম ও শিহাবকে বসতে বলেন। কিন্তু পরে পাঠদানের সুবিধার জন্য ইকরামকে শিহাবের জায়গায় এবং শিহাবকে ইকরামের জায়গায় স্থানান্তর করেন। অনুরূপভাবে আবর্তন অনুমানে আশ্রয়বাক্যের গুণ অপরিবর্তিত রেখে এর উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিবর্তন করা হয়। তাই এটি অমাধ্যম অনুমানের আবর্তনকে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, যে অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে কেবল গুণের পরিবর্তন এবং বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয়। হিসেবে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে প্রতিবর্তন বলে। অর্থাৎ -প্রতিবর্তন হলো কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যকে নঞর্থক আকারে এবং নঞর্থক বাক্যকে সদর্থক বাক্যের আকারে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া। উদ্দীপকের পান্থ স্যার বলেন, 'সব মানুষ হয় মরণশীল। সুতরাং কোনো মানুষ নয় অমর।' তার এই বক্তব্যে কেবল গুণের পরিবর্তন এবং বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটি অমাধ্যম অনুমানের প্রতিবর্তনকে নির্দেশ করে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের নবী স্যারের কাজ ও পান্থ স্যারের কথায় নির্দেশিত অনুমান দুটি অর্থাৎ আবর্তন ও প্রতিবর্তনের মধ্যে গুণগত ও পরিমাণগত পার্থক্য বিদ্যমান।