শিক্ষার্থী শ্রেয়সির বক্তব্যের মতো যুক্তিবিদ্যায় ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে যে বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে তার ভিন্নতাও লক্ষ করা যায়।
যে সব ক্ষেত্রে কোনো পদকে জাতি-উপজাতি, শ্রেণি-উপশ্রেণি আকারে ক্রমিকভাবে সাজানো যায় না সে সব ক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত সম্পর্ক কার্যকর নয়। যেমন— জীব, কাঠ, বই, চাঁদ—পদ এভাবে বিন্যস্ত হলে এ নিয়মটি কার্যকর হয় না। কেননা, এদের একটি অন্যটির সাথে জাতি-উপজাতিগত সম্পর্কে আবদ্ধ নয় এবং এদের পর্যায়ক্রমিকভাবে সাজানোরও অবকাশ নেই। পাশাপাশি যে পদের ব্যক্ত্যর্থ সুনির্দিষ্ট সে ক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থ বাড়া-কমার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। তাই এক্ষেত্রে হ্রাস- বৃদ্ধির নিয়মটিও কার্যকর নয়। যেমন- 'এক ডজন কমলা' এর জায়গায় 'এক হালি কমলা' বলা হলে কমলার জাত্যর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। অর্থাৎ, একই জাতীয় কোনো বিষয়ের সংখ্যাগত পরিবর্তন আবশ্যিক গুণের পরিবর্তন ঘটায় না।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধি বিপরীতমুখী হলেও এর কোনো আনুপাতিক হার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায় না। বস্তুত এ হ্রাস- বৃদ্ধির কোনো গাণিতিক বা জ্যামিতিক হার বা অনুপাত নেই । অর্থাৎ এমন বলা যায় না যে, কতটি জাত্যর্থ থাকলে কতটি ব্যক্ত্যর্থ হবে বা কতটি ব্যক্ত্যর্থ হলে কতটি জাত্যর্থ হবে। এভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীত সম্পর্কের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।