চিত্র নং-২ এবং চিত্র নং-৩ এ যথাক্রমে বিশেষ সদর্থক বা I- যুক্তিবাক্য ও বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। নিচে ব্যাপ্যতার নিয়মের আলোকে এ দুটি যুক্তিবাক্যের ব্যাপ্যতাগত সম্পর্কের বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তিবাক্যকে বিভিন্ন দিক থেকে শ্রেণিবিভাগ করা হয়। এর মধ্যে গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুযায়ী যুক্তিবাক্যকে চারভাগে ভাগ করা যায়। যার দুটি হলো- বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্য এবং বিশেষ নঞর্থক বা O- যুক্তিবাক্য। যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্যে পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করে তাকে বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্য বলে। এই প্রকার যুক্তিবাক্য গুণের দিক থেকে সদর্থক এবং পরিমাণের দিক থেকে বিশেষ। তাই এর উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ অব্যাপ্য। উদ্দীপকের চিত্র নং-২ এ দেখতে পাই, T দ্বারা উদ্দেশ্য ও R দ্বারা বিধেয় পদকে বোঝানো হয়েছে । আর উভয় পদকেই অব্যাপ্য হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে । তাই উক্ত বাক্যটি বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্য। কেননা, বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ অব্যাপ্য হয়।
আবার, যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্যে পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে অস্বীকার করে তাকে বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্য বলে। এই প্রকার যুক্তিবাক্য গুণের দিক থেকে নঞর্থক এবং পরিমাণের দিক থেকে বিশেষ । তাই এর উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ ব্যাপ্য। উদ্দীপকের চিত্র নং-৩ এ দেখতে পাই, T দ্বারা উদ্দেশ্য ও R দ্বারা বিধেয় পদকে বোঝানো হয়েছে। আর উদ্দেশ্য পদকে অব্যাপ্য এবং বিধেয় পদকে ব্যাপ্য হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। তাই উক্ত বাক্যটি বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্য। কেননা, বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য আর বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হয়।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, চিত্র নং-২ এবং চিত্র নং-৩ এ নির্দেশিত বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্য ও বিশেষ নঞর্থক বা 'O-যুক্তিবাক্য হওয়ায় উভয়ের মধ্যে পদের ব্যাপ্যতার ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।