তুর্য ও মিসেল এর বক্তব্যে নির্দেশিত যুক্তিবাক্য দুটি যথাক্রমে সার্বিক নঞর্থক বা ”E” যুক্তিবাক্য ও বিশেষ সদর্থক বা “।” যুক্তিবাক্য। নিচে উভয় যুক্তিবাক্যের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
যে সকল যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক নঞর্থক বা যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকের তূর্য বলে, 'কোনো ঔষধ নয় ভালো'। এখানে, 'ভালো' বিধেয় পদটিকে 'ঔষধ' উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। এ ধরনের যুক্তিবাক্য পরিমাণগত দিক থেকে 'সার্বিক' এবং গুণের দিক থেকে 'নঞর্থক'। আবার, যে সকল যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করা হয় তাকে বিশেষ সদর্থক বা যুক্তিবাক্য বলে। যেমন উদ্দীপকের মিসেল বলে, 'কিছু ঔষধ হয় উপকারী'। এখানে বিধেয় 'উপকার' পদটিকে উদ্দেশ্য 'ঔষধ' পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করা হয়েছে। এ ধরনের যুক্তিবাক্য পরিমাণের দিক থেকে বিশেষ এবং গুণের দিক থেকে সদর্থক।
আমরা জানি, ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুসারে সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ এবং নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয়। উদ্দীপকে নির্দেশিত তূর্যের যুক্তিবাক্য যেহেতু সার্বিক নঞর্থক বা E যুক্তিবাক্য। তাই এই যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। আর, মিসেলের উলিখিত যুক্তিবাক্য বিশেষ সদর্থক বা। যুক্তিবাক্য হওয়ায় এর উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য।
সুতরাং উপরের বিশ্লেষণ থেকে আমরা বলতে পারি, সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্যের উভয় পদ ব্যাপ্য এবং বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্যের উভয় পদ অব্যাপ্য।