দৃশ্যপট-১ ও ২ যথাক্রমে অমাধ্যম অনুমান ও মাধ্যম অনুমানকে নির্দেশ করে। নিচে উভয়ের মধ্যে অনুমানগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, 'কিছু শাড়ি নয় রাজশাহী সিল্ক। অতএব, কিছু রাজশাহী সিল্ক নয় শাড়ি।' এক্ষেত্রে একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয়েছে, যা অমাধ্যম অনুমানকে নির্দেশ করে। দৃশ্যপট-২ এ বলা হয়েছে, 'গ্রীষ্মকালীন ফল হয় রসালো। আম হয় গ্রীষ্মকালীন ফল। অতএব, আম হয় রসালো।' এক্ষেত্রে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে, যা মাধ্যম অনুমানকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যপট-১ অর্থাৎ অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যেরই পরিবর্তিত বা আংশিক রূপ। কিন্তু দৃশ্যপট-২ অর্থাৎ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্যের তুলনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি নতুন যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মাধ্যম অনুমানে এ কারণে সিদ্ধান্তের মূল্য বা গুরুত্ব অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তের তুলনায় অধিক। দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, অমাধ্যম অনুমানে আমরা নতুন কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারি "না। অন্যদিকে, দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, মাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তে নতুন তথ্য সংযোজন হয় বলে এর মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানের সংকীর্ণতা ও পিপাসা দূর হয়।
পরিশেষে বলা যায়, অমাধ্যম ও মাধ্যম অনুমানের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও অবরোহ অনুমানের দুটি প্রকার হিসেবে যুক্তিবিদ্যায় উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।