অদৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ যথাক্রমে A-যুক্তিবাক্য, E-যুক্তিবাক্য, I-যুক্তিবাক্য ও O-যুক্তিবাক্য নির্দেশ করে। নিচে ব্যাপ্যতার ধারণার আলোকে যুক্তিবাক্যগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
A যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। যেহেতু সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য তাই A যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। কিন্তু বিধেয় পদটি অব্যাপ্য। যেমন- 'সকল মানুষ হয় মরণশীল'। এ যুক্তিবাক্যে মানুষ পদটিকে সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কাজেই বাক্যটিতে 'মানুষ' পদটি ব্যাপ্য হয়েছে। কিন্তু বিধেয় 'মরণশীল' পদটিকে সামগ্রিক অর্থে গ্রহণ করা হয়নি। তাই, উপরোক্ত বাক্যটিতে বিধেয় মরণশীল পদটি অব্যাপ্য।
E যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য। সার্বিক যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য এর উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। আবার নঞর্থক যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য এর বিধেয় পদ ব্যাপ্য। অর্থাৎ E যুক্তিবাক্যের উভয় পদই ব্যাপ্য। যেমন: 'কোনো মানুষ নয় অমর' এ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ 'মানুষ' সমগ্র অর্থে বা সামগ্রিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। 'অমরত্ব' এখানে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এর সমগ্র মানুষের ক্ষেত্রেই অস্বীকার করা হয়েছে। 'মানুষ' পদটিকে এভাবে সামগ্রিক অর্থে বা সমগ্র ব্যর্থসহ গ্রহণ করার কারণে পদটি এখানে ব্যাপ্য হয়েছে। অন্যদিকে, এ যুক্তিবাক্যের বিধেয় 'অমর' পদটিও ব্যাপ্য। কেননা অমরত্বের বিষয়টি এখানে সার্বিকভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে। 'অমর' পদের সম্পূর্ণ ব্যস্ত্যর্থকেই এখানে 'মানুষ' পদের ক্ষেত্রে অস্বীকার করা হয়েছে। তাই দেখা যায় উপর্যুক্ত E বাক্যের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। সকল E-বাক্যের ব্যাপারেই বিষয়টি প্রযোজ্য।
I-যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য। বিশেষ যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য এর উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য। অন্যদিকে সদর্থক বাক্য হওয়ার জন্য এর বিধেয় পদটিও অব্যাপ্য। তাই ।-যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয়। যেমন: 'কিছু মানুষ হয় দেশপ্রেমিক'- এখানে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদটির অংশ বিশেষ উল্লিখিত হয়েছে। তাই উদ্দেশ্য পদটি ব্যাপ্য নয়। অন্যদিকে, বিধেয় 'দেশপ্রেমিক" পদটিও এখানে খণ্ডিতভাবে প্রযোজ্য। তাই এ যুক্তিবাক্যটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় কোনো পদই ব্যাপ্য নয়। তাই সকল ও বাক্যের উভয় পদ অব্যাপ্য।
O-যুক্তিবাক্য বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য। বিশেষ হওয়ার কারণে এর উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য। কিন্তু নর্থক হওয়ার জন্য এর বিধেয় পদ ব্যাপ্য। অর্থাৎ O বাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য, কিন্তু বিধেয় পদ ব্যাপ্য। যেমন: 'কিছু মানুষ নয় দেশপ্রেমিক'- এখানে কিছু উল্লেখ থাকায় স্পষ্টতই পদটির আংশিক ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ, বাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ ব্যাপ্য।