দৃশ্যপট-১ ও দৃশ্যপট-২ যথাক্রমে সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্য ও বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিভাগের দিক থেকে উভয় প্রকার যুক্তিবাক্যের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
E-যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য। সার্বিক যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য এর উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। আবার, নঞর্থক যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য এর বিধেয় পদও ব্যাপ্য। অর্থাৎ E-যুক্তিবাক্যের উভয় পদই ব্যাপ্য। যেমন-দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত, 'কোনো ডাব নয় পাকা।' এ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ 'ডাব' সমগ্র অর্থে বা সামগ্রিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিধেয় 'পাকা' পদটিও ব্যাপ্য। তাই E-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য।
অন্যদিকে, O-যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য। বিশেষ হওয়ার কারণে এর উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য। কিন্তু নঞর্থক হওয়ার জন্য এর বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয়। যেমন- দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত, 'কিছু মানুষ সুবিধাবাদী নয়।' এখানে কিছু উল্লেখ থাকায় স্পষ্টতই পদটির আংশিক ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বিধেয় 'সুবিধাবাদী' পদটি সার্বিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই বাক্যটির বিধেয় পদ ব্যাপ্য। অর্থাৎ O- যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ ব্যাপ্য।
উল্লেখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য ও বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্যের গঠন একটি থেকে অন্যটি আলাদা। এরূপ ভিন্নতার কারণে ব্যাপ্যতার দিক দিয়ে দৃশ্যপট-১ ও দৃশ্যপট-২ এর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।