উদ্দীপকের সজলের বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবাক্য এবং জামানের বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাকরণের বাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর এই দুই প্রকার বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।নিচে এদের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তিবাক্য পদ দিয়ে গঠিত হয়। দুটি পদের মধ্যকার স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক সম্পর্কের লিখিত বা মৌখিক বিবৃতিকে যুক্তিবাক্য বলে। একটি যুক্তিবাক্যের দুটি পদ থাকে এবং পদ দুটি সংযোজক দ্বারা যুক্ত থাকে। যুক্তিবাক্যে যে পদ সম্পর্কে কোনোকিছু বলা হয়। তাকে উদ্দেশ্য পদ বলে এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। আর যে শব্দটি উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তাকে সংযোজক বলে। প্রতিটি যুক্তিবাক্য তাই উদ্দেশ্য- সংযোজক-বিধেয় আকারে প্রকাশিত হয়। উদ্দীপকের সজলের বক্তব্য হলো- সকল মানুষ হয় এমন যাদের পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে একদিন। এখানে সজলের বক্তব্যে 'মানুষ' উদ্দেশ্য পদ, এমন যাদের পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে একদিন' বিধেয় পদ। আর 'হয়' শব্দটি সংযোজক। তাই সজলের বক্তব্য উদ্দেশ্য-সংযোজক- বিধেয় আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এই কারণে সজলের বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে।
অপরদিকে, যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো বক্তার মনের ভাব অর্থপূর্ণভাবে প্রকাশ করে তাকে ব্যাকরণের বাক্য বলে। উদ্দীপকের জামানের বক্তব্য হলো- 'কোনো জীবই চিরদিন বেঁচে থাকে না।' এখানে জামানের বক্তব্য দ্বারা ব্যাকরণের বাক্য নির্দেশিত হয়েছে। ব্যাকরণের বাক্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হতে পারে। ব্যাকরণের বাক্যকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা যায়। ব্যাকরণের বাক্যের গুণ ও পরিমাণ অনেক সময় সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশিত হয় না। আর যুক্তিবাক্যের তুলনায় ব্যাকরণের বাক্যের পরিধি অনেক ব্যাপক।