উদ্দীপকের 'চিত্র-২'-এ যৌক্তিক বিভাগ এবং 'চিত্র-৩'-এ গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। আর এই দুই প্রকার বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।
যৌক্তিক বিভাগে একই সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করা হয়। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে একটি পদের ব্যক্ত্যর্থ বা পরিমাণগত দিকের বিশ্লেষণ করা হয়। উদ্দীপকের 'চিত্র-২'-এ 'ব্যবসায়ী' পদটিকে 'সততা' মূলনীতির ভিত্তিতে সৎ এবং অসৎ ব্যবসায়ী এই দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেহেতু 'চিত্র-২'-এ একটি মূলনীতির ভিত্তিতে একটি শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিন্যস্ত করা হয়েছে, তাই 'চিত্র-২'-এর মাধ্যমে যৌক্তিক বিভাগ নির্দেশিত হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের মাধ্যমে জাতি ও উপজাতির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা যায়। এই প্রক্রিয়া সংজ্ঞা নির্ণয়ে বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও যৌক্তিক বিভাগ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
অপরপক্ষে, 'চিত্র-৩'-এ 'আম'কে রসালো, মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে একটি বিশেষ বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করা হয়েছে। অথচ যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম হলো- কেবল কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করা যায়, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুর নয়। যৌক্তিক বিভাগের এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো একটি বিশেষ বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করলে বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক বিভাগের এই ত্রুটিকে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি বলে। যেহেতু 'চিত্র-৩'-এ যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি বিশেষ বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করা হয়েছে, তাই 'চিত্র-৩'-এ গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।