উদ্দীপকের মতিয়ূর স্যারের বিভাগটি দ্বারা সংকর বিভাগ এবং জসীম স্যারের বিভাগটির মাধ্যমে যৌক্তিক বিভাগ নির্দেশিত হয়েছে। আর এই দুই প্রকার বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। যৌক্তিক বিভাগে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের বিভাগ করা হয়।
এক্ষেত্রে একই সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। যৌক্তিক বিভাগের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যেগুলো কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করার ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী একই সময়ে মাত্র একটি মূলনীতি অনুসরণ করতে হয়, একের অধিক নয়। যৌক্তিক বিভাগের এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে ভাগ করার ক্ষেত্রে একই সময়ে একের অধিক মূলনীতি অনুসরণ করলে বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক বিভাগের এই ত্রুটিকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকের মতিয়র স্যার 'ক' কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরকে ভাগ করার ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক মূলনীতি অনুসরণ করেছেন। যেহেতু মতিয়র স্যার যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করে একই সময়ে একাধিক মূলনীতি অনুসরণ করেছেন, তাই তার বিভাগে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরপক্ষে, উদ্দীপকের জসীম স্যার মাত্র একটি মূলনীতি অনুসরণ করে 'ক' কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরকে 'মেধাবী' এবং 'কম মেধাবী' এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। তাই জসীম স্যারের বিভাগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যৌক্তিক বিভাগ নির্দেশিত হয়েছে। কেননা একই সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। যৌক্তিক বিভাগের মাধ্যমে একটি পদের ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়। বিভিন্ন জাতি ও উপজাতির পারস্পরিক সম্পর্ক আমরা যৌক্তিক বিভাগের মাধ্যমে জানতে পারি। এটি সংজ্ঞা প্রদানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও যৌক্তিক বিভাগ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের মতিয়ুর স্যার যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং জসীম স্যার যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুসরণ করেছেন। তাই যতিয়ুর স্যারের বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ এবং জসীম স্যারের বিভাগ সার্বিক বিভাগ।