উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এর শব্দগুলো দ্বারা পদযোগ্য শব্দ এবং দৃষ্টান্ত-৩ এর শব্দগুলোর দ্বারা পদনিরপেক্ষ শব্দ নির্দেশিত হয়েছে। এই দুই প্রকার শব্দের মধ্যে পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তিবিদ্যায় শব্দ তিন প্রকার। যথা- ১. পদযোগ্য শব্দ, ২. সহ-পদযোগ্য শব্দ ও ৩. পদনিরপেক্ষ শব্দ। যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি অন্যকোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে তাকে পদযোগ্য শব্দ বলে। যেমন- 'ফুল হয় সুন্দর' যুক্তিবাক্যটিতে 'ফুল' ও 'সুন্দর' শব্দ দুটি পদযোগ্য শব্দ। কারণ এ যুক্তিবাক্যে 'ফুল' শব্দটি উদ্দেশ্য এবং 'সুন্দর' শব্দটি বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। আর যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি সরাসরি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না তাকে পদনিরপেক্ষ শব্দ বলে। যেমন- আহা, হায়! হায়! ইত্যাদি হচ্ছে পদনিরপেক্ষ শব্দ। কারণগুলো কোনোভাবেই যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয় না। পদযোগ্য শব্দ কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে কিন্তু পদনিরপেক্ষ, শব্দ অন্য কোনো শব্দের সাহায্য নিয়েও যুক্তিবাক্যে " ব্যবহৃত হতে পারে না। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ চিনি, পাতা, ফুল, ফল এগুলো পদযোগ্য শব্দ এবং এদের স্বাধীন অস্তিত্ব রয়েছে। অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-৩ এ কী চমৎকার! সাবাস! ছিঃ ছিঃ বাহ! ইত্যাদি শব্দগুলো পদ নিরপেক্ষ শব্দ, যাদের স্বাধীন কোনো অস্তিত্ব নেই।
পরিশেষে বলা যায়, দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-৩ এ প্রতিফলিত পদযোগ্য ও পদনিরপেক্ষ শব্দের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান থাকলেও এদের মধ্যে পরস্পর সম্পর্ক অনস্বীকার্য।