উদ্দীপকের ছক-১ এর মাধ্যমে পদের ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং ছক-২ এর মাধ্যমে পদের জাত্যর্থ প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো-প্রতিটি পদের অপরিহার্য দুটি দিক থাকে। এর একটি হলো ব্যক্ত্যর্থের দিক এবং অন্যটি হলো জাত্যর্থের দিক। ব্যক্ত্যর্থের দিক বলতে পদের পরিমাণগত দিককে বোঝায়। আর জাত্যর্থের দিক বলতে পদের গুণগত দিককে বোঝায়। পদের এ দুটি দিকের মধ্যে অপরিহার্য সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে এদের মধ্যকার সম্পর্ক বিপরীতমুখী। এ বিপরীতমুখী সম্পর্কের চারটি দিক লক্ষ করা যায়। যথা-
১. কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে তার জাত্যর্থ হ্রাস পায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি করে 'জীব' করা হলে জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে হ্রাস পেয়ে কেবল 'জীববৃত্তি' হয়।
২. কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেলে তার জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস করে 'শিক্ষিত মানুষ' করা হলে জাত্যর্থ বৃদ্ধি পেয়ে 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা' হয়।
৩. কোনো পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে তার ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায়। যেমন- 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে বৃদ্ধি পেয়ে জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সততা হলে ব্যক্ত্যর্থ 'মানুষ' থেকে হ্রাস পেয়ে কেবল 'সৎ মানুষ' হয়।
৪. কোনো পদের জাত্যর্থ হ্রাস পেলে তার ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'সৎ মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সততা' থেকে হ্রাস পেয়ে কেবল 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' হলে ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পেয়ে 'সৎ মানুষ' থেকে 'সকল মানুষ' হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে এ সম্পর্ক অবশ্যই বিপরীতমুখী হয়। অর্থাৎ এদের একটির হ্রাস বা বৃদ্ধিতে অন্যটির বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।