উদ্দীপকের জনাব রশিদের বক্তব্যটি একটি সাধারণ বাক্য আর জনাব আহসানের বক্তব্যটি একটি যুক্তিবাক্য। বাক্য ও যুক্তিবাক্যের মধ্যে পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. সকল যুক্তিবাক্যই বাক্য। কিন্তু সকল বাক্য যুক্তিবাক্য নয়।
২. যুক্তিবাক্যে মোট তিনটি অংশ থাকে। যথা- উদ্দেশ্য, সংযোজক ও বিধেয়। কিন্তু বাক্যে শুধু দুটি অংশ থাকে। যথা- উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
৩. যুক্তিবাক্যের প্রথমে উদ্দেশ্য, মাঝে সংযোজক এবং শেষে বিধেয় থাকে। কিন্তু বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের অবস্থান সম্পর্কে তেমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই।
৪. যুক্তিবাক্যের সংযোজক সবসময়ই বর্তমান কালসূচক হবে। কিন্তু বাক্যের ক্রিয়া যেকোনো কালসূচক হতে পারে।
৫. যুক্তিবাক্যের মাধ্যমে শুধু মনের চিন্তা প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাক্যের মাধ্যমে চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা, আবেগ, বিস্ময় ইত্যাদি নানা প্রকার মনের ভাব প্রকাশিত হয়।
৬. যুক্তিবাক্যের মধ্যে সত্য-মিথ্যা গুণ থাকে। কিন্তু বাক্যে কেবল . ঘোষক বাক্য ছাড়া অন্যান্য বাক্যে এ গুণ থাকে না। তাই তাদেরকে সত্যও বলা যায় না। মিথ্যাও বলা যায় না।
৭. যুক্তিবাক্যের একক হলো পদ, অন্যদিকে বাক্যের একক শব্দ।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব রশিদের বক্তব্য যুক্তিবাক্যের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত না হওয়ায় এটি একটি সাধারণ বাক্য। অন্যদিকে, জনাব আহসানের বক্তব্যটি যুক্তিবাক্যের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হওয়ায় এটি একটি যুক্তিবাক্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বাক্য ও যুক্তিবাক্যের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য থাকলেও তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্কও বিদ্যমান।