উদ্দীপকে পদের ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) ও জাত্যর্থের (Connotation) সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্য্যর্থ ও জার্তথ্যের সম্পর্ককে চারভাগে বিভক্ত করা যায়।
১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে।
মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ হচ্ছে 'সকল মানুষ' এখন অন্যান্য প্রাণীকে এর সাথে যুক্ত করলে এর ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে দাঁড়াবে সকল প্রাণী। কিন্তু এতে করে মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বুদ্ধিবৃত্তি বাদ পড়ে সকল প্রাণীর জাত্যর্থ দাঁড়াবে শুধু জীববৃত্তিতে। কারণ অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তি নেই।
২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে।
মানুষ শ্রেণি থেকে অসৎ মানুষদের বাদ দিলে এর সংখ্যা বা ব্যক্ত্যর্থ কমে দাঁড়াবে সকল সৎ মানুষ। মানুষের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির সাথে আরেকটি জাত্যর্থ এসে যোগ হয়ে সকল সৎ মানুষের জাত্যর্থ হবে জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি + সততা। অর্থাৎ জাত্যর্থ বেড়ে যাবে। এতে, প্রমাণ করা গেল যে, ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে। ৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে।
মানুষ পদের জাত্যর্থ হচ্ছে জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি। এখন এর সাথে সততা যোগ করলে জাত্যর্থ দাঁড়াবে জীববৃত্তি বুদ্ধিবৃত্তি + সততা। ফলে এ তিনটি জাত্যর্থধারী পদের ব্যক্ত্যর্থ হবে সকল সৎ মানুষ। আর এতে করে মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে যাবে। কারণ এখানে অসৎ মানুষেরা বাদ পড়েছে। ফলে প্রমাণিত হলো যে, জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে।
৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।
মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বুদ্ধিবৃত্তিকে বাদ দিলে এর জাত্যর্থ দাঁড়াবে কেবল জীববৃত্তি। এতে করে মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে গিয়ে সকল মানুষ থেকে সকল প্রাণীতে দাঁড়াবে। কারণ জীববৃত্তি নামক গুণটি সকল প্রাণীতেই বর্তমান। আর সকল প্রাণীর সংখ্যা সকল মানুষের চেয়ে বেশি। সুতরাং এতে প্রমানিত হলো যে, জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।