উদ্দীপকের ছক-১ ও ছক-২ দ্বারা যথাক্রমে শব্দ ও পদ নির্দেশ করা হয়েছে যাদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।অর্থপূর্ণ ধ্বনি যা অক্ষরসমষ্টিকে বলা হয় শব্দ (Word)। অপরপক্ষে, এক বা একাধিক শব্দসমষ্টি বাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহারযোগ্য হলে হয় পদ (Term)। অর্থাৎ সব পদ শব্দ হলেও সব শব্দ পদ নয়। যেহেতু সব শব্দ বাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, 'কলমটি খুব সুন্দর' এ বাক্যটিতে 'কলমটি' এবং 'সুন্দর' শব্দদ্বয় পদ হলেও 'খুব' শব্দটি পদ নয়। কারণ এটি বাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয় নি। শব্দ যত বড়ই হোক না কেন, প্রত্যেক শব্দই একটি মাত্র শব্দ। পক্ষান্তরে, পদ একটি শব্দ দ্বারা গঠিত হতে পারে, আবার একাধিক শব্দ দ্বারাও গঠিত হতে পারে। যেমন- 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাগার' এটি একটি পদ, কিন্তু এখানে শব্দ আছে তিনটি।পদের অর্থ সুনির্দিষ্ট বলে কোনো পদের একাধিক অর্থ থাকতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনো শব্দের একাধিক অর্থ থাকতে পারে; যেমন- 'গজ' শব্দটির অর্থ একদিকে 'মাপের একক' অন্যদিকে 'গজ' শব্দের অর্থ 'হাতি'। অর্থাৎ পদের চেয়ে শব্দের ব্যাপকতা বেশি। কারণ পদের ব্যবহার কেবল বাক্যের উদ্দেশ্য এবং বিধেয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ভাষা ও চিন্তন ক্রিয়ার সব ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার চলে।উদ্দীপকে ছক-১ এ মানুষ, ফুল, জীব, সুন্দর এবং হায় শব্দগুলোর নিজস্ব অর্থ রয়েছে কিন্তু এগুলো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয়নি বলে পদ নয়। অন্যদিকে ছক-২ এ ফুল হয় সুন্দর, মানুষ হয় জীব বাক্যগুলোতে মানুষ, ফুল, জীব, সুন্দর এবং হয় শব্দগুলি যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এরা পদ। অর্থাৎ উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি পদ ও শব্দের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।