দৃশ্যকল্প-২ এ পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির, সম্পর্কের ইঙ্গিত রয়েছে।
একটি পদের দুটি দিক থাকে। একটি হলো ব্যক্ত্যর্থ বা সংখ্যাগত দিক এবং অন্যটি হলো জাত্যর্থ বা পরিমাণগত দিক। পদের ব্য্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে অপরিহার্য বা আবশ্যিক সম্পক বিদ্যমান। তবে এই সম্পর্ক বিপরীতিমুখী। পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতিমুখী সম্পর্কের চারটি দিক রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ যখন বৃদ্ধি পায় তখন পদটির জাত্যর্থ কমে যায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে 'জীব' হলে জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে কমে কেবল 'জীববৃত্তি' হয়। আবার, যখন কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে যায় তখন পদটির জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'জীব' পদটির ব্যক্ত্যর্থ কমে যখন কেবল 'মানুষ' হয় তখন জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি' থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' হয়। জাত্যর্থের দিক থেকে যখন একটি পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায় তখন তার ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায়। যেমন- 'মানুষ' পদটির জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে বাড়িয়ে 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা' করা হলে ব্যক্ত্যর্থ কমে 'সকল মানুষ' থেকে কেবল 'শিক্ষিত মানুষ' হয়। আবার, যখন কোনো পদের জাত্যর্থ কমে যায় তখন পদটির ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'শিক্ষিত মানুষ' পদটির জাত্যর্থ কমিয়ে জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা থেকে কেবল 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' করা হলে ব্যক্ত্যর্থ 'শিক্ষিত মানুষ' থেকে বেড়ে 'সকল মানুষ' হয়।
উদ্দীপকে ১০০,৭৫,৫০ সংখ্যা এবং শিক্ষার্থী, নিয়মানুবর্তীতা, পরিশ্রমী পদগুলো ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যকার এই বিপরীত সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ, এদের একটির হ্রাস বা বৃদ্ধিতে অন্যটির বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।