উদ্দীপক-১ ও উদ্দীপক-২-এর মাধ্যমে যথাক্রমে নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার পরিচয় পাওয়া যায়। এই দুটি বিষয়ের বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে।
নীতিবিদ্যা মানব আচরণের সাথে যুক্ত। এই বিষয়টি মানুষের ঐচ্ছিক আচরণের ভালো-মন্দত্ব ইত্যাদি নৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে। অন্যদিকে, যুক্তিবিদ্যা যুক্তির বৈধতা-অবৈধতার সাথে যুক্ত। অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্ণয় করাই যুক্তিবিদ্যার প্রধান কাজ। নৈতিক নিয়মের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে এই বিদ্যার ভিন্নতা থাকে। অর্থাৎ, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে নীতিবিদ্যা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, যৌক্তিক নিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা দেখা যায় না। অর্থাৎ, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে যৌক্তিক নিয়ম একই হয়ে থাকে। আবার দেখা যায়, নৈতিক নিয়মের সাথে বাস্তবতার মিল থাকে। অর্থাৎ, নৈতিক নিয়ম বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু যৌক্তিক নিয়মের সাথে সবসময় বাস্তবতার মিল থাকে না। অর্থাৎ, বাস্তবতার অনুরূপ না হয়েও অনেক সময় যুক্তি বৈধ হয়। নৈতিক নিয়ম সমাজের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কেননা নৈতিক নিয়ম না মানলে সামাজিক মানুষকে অনেক খারাপ চোখে দেখা হয়। অপরদিকে, যৌক্তিক নিয়ম যুক্তির বৈধতা-অবৈধতার সাথে যুক্ত। এই নিয়ম মানা সামাজিক মানুষের জন্য অপরিহার্য নয়।
উদ্দীপকে কিশোরদের নৈতিকতা ও সততা নীতিবিদ্যাকে এবং দার্শনিক সক্রেটিসের হেমলক বিষ পান যুক্তিবিদ্যাকে নির্দেশ করে। এই দুটি ঘটনার ভিন্নতা মূলত যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার পার্থক্যকে তুলে ধরেছে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন দিক দিয়ে এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্কও রয়েছে। কেননা উভয়ই মূল্যবিদ্যার অন্তর্গত দুটি শাখা।