উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এবং দৃশ্যকল্প-৩ যথাক্রমে নন্দনতত্ত্ব (Aesthetics) এবং নীতিবিদ্যা (Ethics) বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ। যাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল ও অমিল রয়েছে।
দর্শনের প্রধানতম তিনটি আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে মূল্যবিদ্যা (Axiology) অন্যতম। নন্দনতত্ত্ব ও নীতিবিদ্যা এই মূল্যবিদ্যারই অন্যতম দু'টি শাখা যারা পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত। এরা উভয়ই আদর্শমূলক বিজ্ঞান। নন্দনতত্ত্বের আদর্শ হচ্ছে সুন্দরকে আয়ত্ত করা আর নীতিবিদ্যার আদর্শ হচ্ছে মঙ্গল। ব্যবহারিক দিক থেকে নন্দনতত্ত্ব সৌন্দর্য চর্চার নিয়মকানুন আবিষ্কার করে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের নির্দেশ দান করে। যেমন: বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনে তার সামনে ফুলের গাছ লাগানো। স্বল্প লাভে পণ্য বিক্রয় করা। অপরদিকে, নীতিবিদ্যা নৈতিক আদর্শের আলোকে মানুষের কাজ-কর্ম কেমন হওয়া উচিত তা আলোচনা করে। তবে এদের মধ্যে বিষয়বস্তু এবং নিয়মাবলির ভিন্নতা আছে নন্দতত্ত্ব সৌন্দর্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। যেমন: অন্যদিকে নীতিবিদ্যা নৈতিকতায় গুরুত্ব দেয়। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, পরিপাটি পোশাক মানুষের রুচিশীলতার পরিচয় বহন করে। মানুষের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনে তার ভেতর সৌন্দর্যবোধের ধারণা থাকতে হয়। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ এ বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষেরই মূল্যবোধ সম্পন্ন হওয়া উচিত। এখানে মানুষের মধ্যে মূল্যবোধের ধারণা আসে তার নৈতিক চিন্তা থেকে। ভালো-মন্দের জ্ঞান সে লাভ করে নীতি-নৈতিকতার মাধ্যমে। পরিশেষে বলা যায়, উৎপত্তিগত, আদর্শগত এবং ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে নন্দনতত্ত্ব এবং নীতিবিদ্যার মধ্যে সম্পক বিদ্যমান। মানবজীবনের চরম আদর্শ সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের মধ্যে সুন্দর হচ্ছে নন্দনতত্ত্বের এবং মঙ্গল হচ্ছে নীতিবিদ্যার আদর্শ। কিন্তু তাদের মধ্যে বিষয়বস্তু এবং নিয়মাবলির ভিন্নতা বিদ্যমান।