উদ্দীপকে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে। সংগতকারণে এই সম্পর্ক ভিন্ন প্রকৃতির।
কোনো পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর আরোপিত হয়, সে বস্তু বা বস্তুসমূহকে ঐ পদের ব্য্যর্থ বলে। আর কোনো পদ যে সাধারণ ও আবশ্যিক গুণ বা গুণ সমষ্টিকে নির্দেশ করে, সেই গুণ বা গুণ সমষ্টি হলো ঐ পদের জাত্যর্থ। পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। এদের একটি বাড়লে অন্যটি কমে, এবং একটি কমলে অন্যটি বাড়ে। নিচে এই বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখানো হলো-
ছক অনুসারে যদি মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থের সাথে অন্যান্য জীব যোগ হয় তাহলে ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে হয় সব জীব। কিন্তু জাত্যর্থ কমে হয় জীববৃত্তি। অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে। আবার যদি মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে সৎ মানুষ হয়। তাহলে জাত্যর্থ বেড়ে হয় জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি + সততা। অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে। অন্যদিকে, যদি মানুষ পদের জাত্যর্থের সাথে সততা গুণটি যোগ করি তাহলে ব্যক্ত্যর্থ কমে যায়। কারণ অসৎ মানুষ বাদ পড়ে। অর্থাৎ, জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে। আবার যদি মানুষ পদের জাত্যর্থ থেকে বুদ্ধিবৃত্তি বাদ দেওয়া হয় তাহলে জাত্যর্থ কমে হয় শুধু জীববৃত্তি। কিন্তু ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে হয় সব জীব। অর্থাৎ জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায় শিক্ষার হার বাড়লে বেকারত্ব হ্রাস পায়। আবার শিক্ষার হার হ্রাস পেলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে হ্রাস-বৃদ্ধির যে সম্পর্ক রয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সুতরাং ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের সম্পর্ক একই প্রকৃতির নয় এদের সম্পর্ক বিপরীতমুখী।