উদাহরণ-১ ও উদাহরণ-২ যথাক্রমে বাক্য ও যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে।
যে শব্দ বা শব্দ সমষ্টি দ্বারা স্পষ্টভাবে মনের ভাব প্রকাশ করা যায় তাকে বাক্য বলে। যেমন- উদাহরণ-১ এ বলা হয়েছে, 'সে বই পড়ে'। অর্থাৎ বক্তা যা বলতে চায় তা প্রকাশ করার জন্য যে সকল শব্দ বা শব্দ সমষ্টি ব্যবহার করে তাই বাক্য। অন্যদিকে যুক্তিবাক্য হলো দুটি পদের মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক কোনো সম্পর্কের লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি। যেমন- উদাহরণ-২ এ বলা হয়েছে, 'সব ফুল হয় লাল'। অর্থাৎ সংযোজক দ্বারা স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক সম্পর্কের বিবৃতিই হলো যুক্তিবাক্য।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাক্য এবং যুক্তিবাক্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন- বাক্যের দুটি অংশই যথেষ্ট। যথা: উদ্দেশ্য এবং বিধেয়। কিন্তু যুক্তিবাক্যের অন্তত তিনটি অংশ থাকতে হয়, যথা: উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক। বাক্যে ব্যবহৃত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও বিধেয় সুনির্দিষ্ট স্থানে নাও বসতে পারে। কিন্তু যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্যর পরে সংযোজক এবং তারপর বিধেয় এভাবে সাজানো থাকে। এজন্য সকল যুক্তিবাক্যই বাক্য। তবে সকল বাক্যই যুক্তিবাক্য নয়।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবাক্যকে সাধারণ বাক্যের সাথে এক করে দেখা সঙ্গত নয়। কেননা গঠনগত ও অন্যান্য দিক থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে এদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কও বিদ্যমান।