উদ্দীপকের তামান্না ও তামিমের বক্তব্যে যৌথভাবে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে। পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান তবে এ সম্পর্ক বিপরীতমুখী। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-কোনো একটি পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর প্রযোজ্য হয় তাকে ঐ পদের ব্যক্ত্যর্থ বলে। যেমন- মানুষ পদটি সকল মানুষের ওপর প্রযোজ্য। তাই মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ সকল মানুষ। আর কোনো একটি পদ যে অপরিহার্য তা আবশ্যিক গুণাবলি প্রকাশ করে তাকে ঐ পদের জাত্যর্থ বলে। যেমন- মানুষ পদের অপরিহার্য ও আবশ্যিক গুণাবলি হলো জীববৃত্তি+বুদ্ধিবৃত্তি। তাই মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি-বুদ্ধিবৃত্তি। পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ গভীরভাবে সম্পর্কিত। তবে এ সম্পর্ক বিপরীতমুখী। অর্থাৎ, যখন একটি পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়, তখন পদটির জাত্যর্থ কমে যায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্তার্থ বাড়িয়ে 'জীব' করা হলে জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে কেবল 'জীববৃত্তি' হয়। একইভাবে যখন কোনো পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়, তখন পদটির ব্যক্ত্যর্থ কমে যায়। উদ্দীপকের তামান্না ও তামিমের বক্তব্যে দুধের পরিমাণ ও গুণের বিপরীত সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিমাণ কম থাকলেও গুণ বেশি ছিল এবং পরিমাণ বেশি হলেও গুণ কমে গেছে। এ বিষয়টিকে পুদের ব্যক্তার্থ ও জাত্যর্থের দিক থেকে বিবেচনা করলে পদের ব্যক্তার্থ ও জাত্যর্থের সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তামান্না ও তামিমের বক্তব্যের দ্বারা যৌথভাবে পদের ব্যক্তার্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতক্রমে হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ক নির্দেশিত হয়েছে।