উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির গুণগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিভেদক লক্ষণ ও উপলক্ষণ। কেননা উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে 'বুদ্ধিমান' এবং 'বিচারশক্তিসম্পন্ন' এই দুটি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে।বিধেয়ক হলো এক প্রকার সম্পর্ক যা সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিশ্বের পদের মধ্যে তৈরি হয়। পাঁচ প্রকার বিধেয়কের মধ্যে তৃতীয়টি হলো বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ। সাধারণত বিভেদক লক্ষণ বলতে বিভেদ করার লক্ষণ বা গুণকে বোঝায়। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি থেকে একটি বিশেষ উপজাতিকে আলাদা করে সেই গুণ বা গুণাবলিকে বিভেদক লক্ষণ বলে। আবার, বিভেদক লক্ষণ হলো এমন গুণ যা কোনো জাতির সারসত্তাকে প্রকাশ করে। যেমন— বুদ্ধি নামক গুণটি মানুষ উপজাতিকে 'জীব' জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি থেকে বিভেদ বা পৃথক করে। তাই বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি 'মানুষ' উপজাতির ক্ষেত্রে বিধেয়ক হিসেবে বিভেদক লক্ষণ উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে তাকে বুদ্ধিমান হলে অভিহিত করা হয়েছে যা বুদ্ধিবৃত্তিকে নির্দেশ করেছে। তাই 'বুদ্ধিমান গুণটি দ্বারা বিধেয়কের প্রকারভেদ বিভেদক লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।আবার, বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে চতুর্থটি হল উপলক্ষণ। সাধারণত উপলক্ষণ বলতে বোঝায় বিভেদক লক্ষণ থেকে কোনো গুণ। তাই বলা যায়, যে গুন বা গুণাবলী কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, তবে জাত্যর্থ বা এর কোনো অংশ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে উপলক্ষণ বলে।অর্থাৎ, উপলক্ষণ জাত্যর্থের অংশ না হলেও জাত্যর্থের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত। উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে রী ঠাকুর সম্পর্কে তাকে বিচারশক্তিসম্পন্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বিচারশক্তিসম্পন্ন' গ্রুপটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু 'মানুষ' পদের জাতার্থের অংশ 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে নিঃসৃত হয়। তাই বিচারশক্তি সম্পন্ন” গুণটি দ্বারা বিধেয়কের প্রকারভেদ উপলক্ষ্য নির্দেশিত হয়েছে।