দৃশ্যকল্প-৩ এ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উপাদানসমূহকে নির্দেশ করে।নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-আমরা জানি একটি যুক্তিবাক্য তিনটি উপাদানের সাহায্যে গঠিত হয়। যথা— ১. উদ্দেশ্য ২. বিধেয় ও ৩. সংযোজক। কোনো যুক্তিবাক্যে যার সম্বন্ধে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে উদ্দেশ্য বলে। আবার, কোনো যুক্তিবাক্যে যার দ্বারা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বিধেয় বলে । আর যুক্তিবাক্যে যে শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয় তাকে সংযোজক বলে। এই সম্পর্ক সদর্থক বা নঞর্থক উভয়ই হতে পারে। যেমন- সকল মানুষ হয় মরণশীল। এখানে মানুষ' পদ দ্বারা 'মরণশীল' পদটিকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। তাই মানুষ'ল পদটি উদ্দেশ্য। আর মরণশীল পদটিকে উদ্দেশ্য মানুষ পদটির উপর আরোপ করা হয়েছে তাই এটি বিধেয়। আর হয় শব্দটি উভয় পদের সংযোজক।উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-৩ এ উল্লিখিত বাক্যদ্বয়ে দেখতে পাই, 'ফুলগুলো খুব সুন্দর', 'আজ আকাশের রং নীল'। এখানে ফুলগুলো, সুন্দর, আকাশের রং, নীল শব্দগুলো পদযোগ্য শব্দ হওয়ায় তা যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় অথবা উভয় পদ হিসেবেই যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু 'আজ, খুব' শব্দগুলো পদ অ-যোগ্য শব্দ হওয়ায় যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। তাই এগুলো যুক্তিবাক্যের উপাদান নয়। কিন্তু ফুলগুলো, সুন্দর, আকাশের রং, নীল শব্দগুলো পদযোগ্য শব্দ হওয়ায় তা যুক্তিবাক্যের উপাদান।