দৃষ্টান্ত-১ এ নির্দেশিত শব্দগুলো হলো পদযোগ্য শব্দ ও দৃষ্টান্ত-৩ এ নির্দেশিত শব্দগুলো হলো পদ-অযোগ্য শব্দ।নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করা হলো- যে শব্দ অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজেই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় রূপে ব্যবহৃত হতে পারে তাকে পদযোগ্য শব্দ বলে। তেঁতুল হয় টক -এ যুক্তিবাক্যে তেতুল ও টক শব্দদ্বয় একা একাই যথাক্রমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। যে শব্দ কখনই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হতে পারে না তাকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে । যেমন— হায়, আহা, ওহ্, মরি, মরি ইত্যাদি পদ অযোগ্য শব্দ। উদাহরণস্বরূপ— হায়! আমি হই গরিব। এখানে 'হায়' শব্দটি 'আমি হই গরিব' যুক্তিবাক্য থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ উল্লেখ আছে— কালো, কাক, কৃষক। যা যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় রূপে একা একা ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন— সকল কাক হয় কালো। এ যুক্তিবাক্যে 'কাক' ও 'কালো'। স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার দৃষ্টান্ত-২ এ উল্লেখ আছে-বাহ! বাহ!, আহ! সাবাশ, ওহ্!। এগুলো যুক্তিবাক্যে ব্যবহার করা যায়না। যেমন, ওহ্, ফুলটি হয় সুন্দর । এখানে, 'ওহ্' শব্দটি যুক্তিবাক্য 'ফুলটি হয় সুন্দর' হতে বিচ্ছিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-৩ এর শব্দগুলো পদযোগ্য শব্দ ও পদ অযোগ্য শব্দকে নির্দেশ করেছে।উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের প্রদত্ত ধারাগুলোর মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে পদযোগ্য শব্দ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। অন্যদিকে, পদ অযোগ্য শব্দ উদ্দেশ্য এবং বিধেয় রূপে ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। অর্থাৎ পদযোগ্য শব্দ পদ কিন্তু পদ অযোগ্য শব্দ পদ নয়।