ব্যাপ্যতার দিক থেকে চিত্র-১দ্বারা A-যুক্তিবাক্য ও চিত্র-৩ দ্বারা O-যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। নিচে উভয় যুক্তিবাক্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-চিত্র-১ এ প্রতীয়মান A-যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। কারণ এই যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করে। তাই A-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি ব্যাপ্য হলেও বিধেয় পদটি অব্যাপ্য হয়। যেমন— 'সকল দার্শনিক হয় জ্ঞানী'। এ যুক্তিবাক্যে দার্শনিক পদটিকে সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ দার্শনিক বলতে দুনিয়ার সব দার্শনিককে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কাজেই বাক্যটিতে দার্শনিক পদটি ব্যাপ্য হয়েছে। কিন্তু বিধেয় 'জ্ঞানী' পদটিকে' কেবল দার্শনিকের বেলায় স্বীকার করা হয়েছে। তাই বিধেয় পদটি অব্যাপ্য। অন্যদিকে, চিত্র-৩ এ প্রতীয়মান O-যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে অস্বীকার করে। এ কারণে O-যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য। পরিমাণের দিক থেকে বিশেষ হওয়ারকারণে O-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য হয়। কিন্তু নঞর্থক হওয়ার জন্য এর বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হয়। যেমন— 'কিছু আম নয় মিষ্টি'। এখানে কিছু উল্লেখ থাকায় স্পষ্টতই পদটির আংশিক ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ, উদ্দেশ্য পদ 'আম' এখানে ব্যাপ্য নয়। কিন্তু বিধেয় 'মিষ্টি' পদটি এখানে সার্বিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা মিষ্টি নয় এমন সমগ্র জিনিসের মধ্যে অবশ্যই কিছু আম অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মিষ্টি বলতে এখানে কেবল আম, জাম বা কোনো বিশেষ কিছুর কথা বলা হয়নি, মিষ্টি পদটিকে এখানে সার্বিক বা সমগ্র ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বাক্যটির বিধেয় পদ ব্যাপ্য।তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, একটি পদের ব্যাপ্যতা নির্ভর করে সেই পদের ব্যক্ত্যর্থের ওপর। উদ্দীপকের চিত্র-১ ও চিত্র-৩ এ পদের ব্যাপ্যতা ভিন্নতা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ব্যাপ্যতার দিক থেকে চিত্র-১ ও চিত্র-৩ এর মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়।