উদ্দীপকে মি. রহিমের ট্রাক্টর দ্বারা চাষাবাদের প্রেক্ষিতে 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির ওপর প্রভাব পড়বে।'উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে, প্রথম পাঁচ বছরে শ্রম ও মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে প্রান্তিক উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ, খরচ বাড়লেও উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমে গেছে। এটি 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি নির্দেশ করে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট উপাদান অপরিবর্তিত রেখে অন্য উপাদানের ব্যবহার বাড়ালে এক পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি কমতে থাকে। তবে, পরে যখন মি. রহিম ট্রাক্টর ব্যবহার শুরু করেন, তখন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা এই বিধির একটি ব্যতিক্রম সৃষ্টি করে। এই ব্যতিক্রম ঘটে কারণ যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তির সংযোজন উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, ফলে প্রান্তিক উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমন, যদি কৃষক রহিম শুধুমাত্র শ্রমিক দিয়ে জমি চাষ করে, তবে এক পর্যায়ে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করলেও উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমতে থাকবে। কিন্তু যদি তিনি ট্রাক্টর বা আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করেন, তাহলে জমি চাষের কার্যক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যাবে এবং উৎপাদনও বাড়বে। উদ্দীপকের ক্ষেত্রে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে-প্রথম দিকে শ্রম ও মূলধন বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উৎপাদন হ্রাস পেয়েছিল, কিন্তু ট্রাক্টর ব্যবহারের ফলে এটি আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং, ট্রাক্টর ব্যবহারের ফলে 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি'র প্রভাব হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির হার পুনরায় বাড়তে পারে। এটি দেখায় যে প্রযুক্তির সংয়োজনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায়। প্রান্তিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির একটি ব্যতিক্রম।