না, দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ একই প্রকৃতির অনুপপত্তি ঘটেনি। বরং উভয় দৃশ্যকল্পে অব্যাপক সংজ্ঞা ও অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
কোনো পদের সংজ্ঞায় জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ উল্লেখ করা হয় এবং সেটি যদি বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হয়, তাহলে তাতে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটবে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লেখ করা হয়েছে, 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন শিক্ষিত জীব'। আমরা জানি, মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো দুটি- বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি। কিন্তু দৃশ্যকল্প-১ এর সংজ্ঞায় অতিরিক্ত গুণ হিসেবে মানুষকে শিক্ষিত বলা হয়েছে। যা মানুষ পদের বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। এ কারণে এখানে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
অন্যদিকে, কোনো পদের সংজ্ঞায় জাত্যর্থের আংশিক গুণ উল্লেখ করলে উক্ত পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত, 'মানুষ হয় জীব'। এখানে 'মানুষ' পদের সংজ্ঞায় 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণটি বাদ পড়েছে। ফলে মানুষ পদের জাত্যর্থ হ্রাস পাওয়ার বিপরীতে ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, অব্যাপক সংজ্ঞা ও অতিব্যাপক সংজ্ঞা দুটি ভিন্ন সংজ্ঞা। এরূপ ভিন্নতার দৃষ্টান্ত প্রতীয়মান হয় উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ। এ কারণে দৃষ্টান্ত দুটি একটি থেকে অন্যটি আলাদা।