উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি একটি যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা। অপরপক্ষে দৃশ্যকল্প-৩ এর ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি বর্ণনা। নিচে যৌক্তিক সংজ্ঞার সাথে বর্ণনার পার্থক্য নির্ণয় করা হলো-
কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে সহজ, সরল ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। দৃশ্যকল্প-৩ এ বর্ণিত 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।' এখানে 'মানুষ' পদের পূর্ণ জাত্যর্থ হিসেবে 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি' উল্লেখ করার মাধ্যমে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ণনার ক্ষেত্রে পদের পূর্ণ জাত্যর্থ বা অপরিহার্য অর্থ উল্লেখ করা হয় না, উপলক্ষণ (Proprium or Property) ও অবান্তর লক্ষণ (Accidens) উল্লেখ করার মাধ্যমে নিছক বিবৃতি দেওয়া হয়।
যৌক্তিক সংজ্ঞা একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। যার সুনির্দিষ্ট পাঁচটি নিয়ম রয়েছে। কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে সেসব নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এ কারণে প্রতিটি পদের যৌক্তিক সংজ্ঞা হয় নির্ধারিত ও সুস্পষ্ট। পক্ষান্তরে, বর্ণনা একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। যার ক্ষেত্রে সুনির্ধারিত কোনো নিয়ম নেই। এ কারণে বর্ণনার মাধ্যমে ব্যক্তির নিজস্ব ধারণা প্রকাশ পায়।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনা দু'টি ভিন্ন বিষয়। তবে ব্যবহারিক জীবনে আমরা যেরূপ বিবৃতি প্রদান করি, তা বর্ণনা হিসেবেই অধিক পরিচিত।